সাভারে করোনায় নতুন আক্রান্তদের সবাই পোশাক শ্রমিক

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার সকল কারখানা বন্ধের সুপারিশের একদিনের মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়েছে প্রশাসনের।

সাভারে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আটজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক। যাদের বয়স ৩৫ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে।
এ নিয়ে সাভারে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ জনে। সংক্রমণ থেমে নেই পার্শ্ববর্তী উপজেলা ধামরাইতেও। সেখানেও আক্রান্তের সংখ্যা সাতজন। নতুন আক্রান্ত পোশাক শ্রমিকরা যেসব এলাকায় থাকতেন শুক্রবার ওই সব এলাকা লকডাউন করে দিয়েছে পুলিশ।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জরুরি একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

ওই চিঠিতে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সম্ভব দ্রত সময়ের মধ্যে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার সকল কারখানা বন্ধসহ সাভারে প্রবেশের পথ বন্ধ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

ওই চিঠির বিষয়ে সবশেষ সরকার কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কেউ কিছু জানাতে পারেননি।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শতাধিক পোশাক কর্মী করোনার পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এরমধ্যে যাচাইবাছাই করে ৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় সাভারের প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ল্যাবে।

এদের মধ্যে আটজন তৈরি পোশাক শ্রমিকের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। যাদের একজন ধামরাইয়ের বাসিন্দা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সাভারে আক্রান্ত হওয়া আটজনের মধ্যে সাতজন শ্রমিক কাজ করেন উলাইল এলাকার পৃথক তিনটি তৈরি পোশাক কারখানায়।

তবে শ্রমিকরা আক্রান্ত হওয়ায় এই তিনটি কারখানা লকডাউন করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর মেলেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সায়েমুল হুদা বলেন, তারা যেমন আশঙ্কা করছিলেন তা এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে এই অঞ্চলে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো একেবারে অসম্ভব হবে।
তিনি বলেন, পোশাক কারখানা খোলার পর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। নতুন করে আক্রান্তদের প্রায় সকলেই পোশাক শ্রমিক। তাদের রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here