তাবলিগ জামাতের লোকদের চিকিৎসা নয়, ওদের গুলি করে মারা উচিত : রাজ ঠাকরে

করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব এখন আতঙ্কিত। সেই আতঙ্কের মধ্যেই ভারতে হয় তাবলিগ জামাত। সেই জামাতের ফলে বেশ কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নিজামুদ্দিনের ঘটনা নিয়ে এবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা প্রধান রাজ ঠাকরে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে রাজ ঠাকরে শনিবার বলেন, নিজামুদ্দিনের তাবলিগ জামাত ফেরত লোকদের চিকিৎসা করা উচিত নয়, এদের গুলি করে মারা উচিত।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যোগ দেন ২ হাজার মানুষ। ওই সম্মেলনে এসেছিলেন সৌদি আরব, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া-সহ একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা। সম্মেলনে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদের অনেকেই ফিরে গিয়েছেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে কাশ্মীরের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর।

এ নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা ভারতে। তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও গিয়েছিলেন অনেকে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদের চিহ্নিত করা গেছে। তাদের আপাতত রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে।

বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এমএনএস প্রধান বলেন, দেশ এখন ভয়ংকর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এ রকম অবস্থায় ওরা ধর্মটাকেই বড় করে দেখছে। এর মধ্যে যদি কোনো ষড়যন্ত্র থাকে তাহলে তাবলিগ জামাতে থাকা লোকজনকে চিহ্নিত করতে হবে। তারপর তাদের চাবকাতে হবে। সেই ভিডিও ভাইরালও করা উচিত।

রাজ ঠাকরের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এ নিয়ে বিবৃতি দেওয়া উচিত। দেশে হচ্ছেটা কী!এদের প্রকাশ্য চাবুক মারা উচিত যাতে অন্যদের শিক্ষা হয়। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে সবচেয়ে আক্রান্ত মহারাষ্ট্র ও কেরালা। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০। সুস্থ হয়েছেন ৫০ জন।

এদিকে, নিজামুদ্দিনের তাবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে করোনা ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে পাল্টা বক্তব্যও রয়েছে বিভিন্ন মহলের। কোনো কোনো মহল থেকে যুক্তি খাঁড়া করা হচ্ছে, নিজামুদ্দিনের তাবলিগ জামাতের অনেক আগেই বিদেশে থেকে ফেরানো হয়েছে কয়েক লাখ ভারতীয়কে।

বিমানবন্দরে তাদের আটকানো হয়নি। কেন্দ্র, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বলে, করোনা এদেশে কোনো বিপদের বিষয় নয়। ৩০ জানুয়ারি দেশে প্রথম করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেলেও চীন থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি ভারত সরকার। অনেক গাফিলতি আগেই হয়ে গেছে।
উৎসঃ নয়া দিগন্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here