‘চাল চোর চেয়ারম্যান’ এখনও আওয়ামী লীগের সভাপতি!

জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল থেকে ২৭ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন পল্টু। এ অভিযোগে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়নি। নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপও। বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকলেও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেই নিজেকে দাবি করে আসছেন। চাল আত্মসাতের এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীত দমন কমিশনে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৪ এপ্রিল দুপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ২৭ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগে নৌবাহিনীর সহায়তায় কাকচিড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন পল্টুকে গ্রেপ্তার করে পাথরঘাটা থানার পুলিশ। এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা গোলাম কবির জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে তাঁরা এ অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন পল্টু তার ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৪ মেট্রিক টন চালের মধ্যে মাত্র সাড়ে ১৬ মেট্রিকটন চাল বিতরণের সঠিক প্রমাণ তিনি দিতে পেরেছেন। বাকি সাড়ে ২৭ মেট্রিকটন চাল বিতরণের সঠিক প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম সাহা বলেন, কাকচিড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একটি কাউন্সিলে কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার পরে ওই কাউন্সিলেই আলাউদ্দিন পল্টু একক সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। আর সেক্রেটারী হিসেবে আটজন প্রার্থী থাকায় সাংগঠনিকভাবে কোন ঘোষণা দেওয়া না হলেও একক প্রার্থী হিসেবে আলাউদ্দিন পল্টু নিজেকে সভাপতি হিসেবেই দাবি করে আসছেন। তবে তিনি যে কাজ করেছেন তাতে আওয়ামী লীগের কোন পদ তো দূরের কথা তার প্রাথমিক সদস্যপদও থাকা উচিৎ নয় বলে আমি মনে করি।
 
আওয়ামী লীগ থেকে এখনও কেন তাকে বহিষ্কার করা হয়নি এমন এক প্রশ্নের উত্তরে পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো আলমগীর হোসেন বলেন, আমি গত এক মাস ধরে অসুস্থ। উপজেলা অওয়ামী লীগের সেক্রেটারী অ্যাড. জাবিরকে আমি বলে দিয়েছি তাকে বহিষ্কার করার জন্য।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি অ্যাড. জাবির বলেন, অতি সম্প্রতি কাউন্সিলের পর কাকাচিড়া ইউনিয়ন কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। তিনি কার্যত এখন আর কোন পদে নেই। তারপরেও আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য রয়েছেন। প্রাথমিক সদস্য থেকে বহিস্কার করতে সভার মাধ্যমে তা করতে হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বরগুনা-০১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, যেহেতু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত হোক। তারপর তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here